Home জেলার খবর নিয়ামতপুর নিয়ামতপুরে কলেজ ছাত্রীর মাথার চুল কেটেশ্লীলতাহানীর অভিযোগ

নিয়ামতপুরে কলেজ ছাত্রীর মাথার চুল কেটে
শ্লীলতাহানীর অভিযোগ

538
0

শাহজাহান শাজু, নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর নিয়ামতপুরে নিয়ামতপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এন্ড কলেজের একাদ্বশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তুলে নিয়ে গিয়ে মাথার চুল কেটে শাররিরীক ভাবে নির্যাতন করার অভিযোগ উঠেছে বখাটেদের বিরুদ্ধে। চুল কাটার পর কয়েক ঘন্টা ধরে ওই ছাত্রীর আপত্তিকর অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে ইন্টারনেটেও ছাড়াও হুমকী দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে তারা। এ ঘটনায় সোমবার মেয়ের বাবা বাদী হয়ে থানায় এজাহার করলে রায়হান (২৫) নামের এক বখাটেকে আটক করেছে পুলিশ। নির্যাতনের শিকার সুমি (১৮) উপজেলা সদর ইউনিয়নের শাংশৈইল গ্রামের বাসিন্দা আমরুল ইসলামের মেয়ে। ঘটনাটি ঘটে রবিবার সন্ধ্যার পূর্বে উপজেলা সদরের বালাহৈর জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায়।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের ঝাজিরা গ্রামের মতিউর রহমানের বিবাহিত ছেলে রায়হান আলমের সঙ্গে এক মাস আগে মুঠোফোনে নিয়ামতপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণিপড়–য়া ওই ছাত্রীর পরিচয় হয়। কথা বলার এক পর্যায়ে রায়হান মেয়েটিকে খারাপ প্রস্তাব দেন। ওই ঘটনার পর মেয়েটি রায়হানের সঙ্গে ফোনে কথা বলা বন্ধ করে দেন। এরপর গ্রাম থেকে নিয়ামতপুর উপজেলা সদরে কোচিং সেন্টার ও প্রাইভেটের জন্য যাওয়া-আসার পথে রায়হান তাঁর পথ আটকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। গত রোববার বিকেলে নিয়ামতপুর উপজেলা সদরে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ শেষে বাড়ি ফেরার পথে অটোরিকশায় করে বালাহৈর বাজার এলাকায় পৌঁছালে রায়হান ও তাঁর সঙ্গে আরও তিন যুবক তাঁকে বালাহৈর বাজারে রায়হানের ভাড়া বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই বাড়িতে আটকে রেখে বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রায়হান ও তাঁর বন্ধুরা ওই তরুণীর আপত্তিকর ছবি তোলে। পরে ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেখিয়ে ওই তরুণীকে শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাপ দেওয়া হয়। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাঁরা ওই তরুণীর মাথার চুল কেটে নেয়। এক সময় বিষয়টি জানাজানি হলে বালাহৈর বাজারের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে রায়হান ও তাঁর বন্ধুরা মেয়েটিকে ছেড়ে দেন এবং ওই তরুণী খারাপ চরিত্রের বলে প্রচার করতে শুরু করে। পরে স্থানীয় লোকজন নিয়ামতপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। খবর পেয়ে রোববার রাতে মেয়েটিকে বাড়িতে নিয়ে যায় স্বজনেরা। ওই তরুণীর মুখে ঘটনা শোনার পর তাঁর বাবা রায়হান ও অজ্ঞাত দুই যুবকের বিরুদ্ধে সোমবার নিয়ামতপুর থানায় মামলা করলে নিজ বাড়ি থেকে রায়হানকে দুপুরের দিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ওই তরুণী বর্তমানে নিয়ামতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই তরুণীর বাবা অভিযোগ করেন, ‘ওই বখাটেরা আমার মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে তাঁর ওপর শারিরীক নির্যাতন চালায়। এখন পর্যন্ত একজন গ্রেপ্তার হলেও আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমার মেয়ের আপত্তিকর ছবি রয়েছে তাঁদের মোবাইলে। যে কোনো মূহূর্তে তাঁরা সেই সব ছবি ছড়িয়ে দিতে পারে। তখন আমাদের সমাজে মুখ দেখানোর উপায় থাকবে না।’
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন এবং দন্ডবিধির আরো দুটি ধারায় মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে মামলার প্রধান আসামি রায়হানকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায়হানকে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলায় অভিযুক্ত অজ্ঞাত দুই যুবকের পরিচয়ও পাওয়া গেছে। তাঁদেরকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here