Home জাতীয় এক এক করে ৭৪ এ পা রাখলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এক এক করে ৭৪ এ পা রাখলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

377
0

সম্পাদকীয়।

শেখ হাসিনা ওয়াজেদ (জন্ম ২৮ সেপ্টেম্বর ১৯৪৭) বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের একাদশ জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় প্রধান এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাঁর দল আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ০৭ জানুয়ারি ২০১৯ শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি প্রথম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নেতৃত্বধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সে বছরের ১২ জুনের সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল।

২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তাঁর দল আওয়ামী লীগ পরাজয় বরণ করে। শেখ হাসিনা বিরোধীদলের নেতা নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাত সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরে জটিলতা সৃষ্টি করলে সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। প্রায় ২ বছর ক্ষমতায় থাকার পর ঐ সরকার ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আয়োজন করে। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

এর আগে ১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনা ৩টি সংসদীয় আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। এই নির্বাচনের পরেই দেশ থেকে সামরিক আইন প্রত্যাহার করে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়। শেখ হাসিনা নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনের নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং এই আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়।

১৯৯১ সালের সংসদীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনা পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন। তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলসহ সকলকে সংগঠিত করেন।

১৯৯৬ সালে বিএনপি’র ভোটারবিহীন নির্বাচনের বিরুদ্ধে তিনি গণআন্দোলন গড়ে তোলেন। এই আন্দোলনের মুখে ৩০ মার্চ তৎকালীন খালেদা জিয়ার সরকার পদত্যাগে বাধ্য হয়।

অনেকবার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জীবন কেড়ে নেওয়ার জন্য বারবার হামলা করা হয়েছে। তিনি বারবার প্রাণে বেঁচে গেছেন। ২০০১ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা ছিল সবচেয়ে বেশি কলঙ্কিত। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার এ হামলার দায় এড়াতে পারে না। কেননা তাদের দলের অনেক নেতাকর্মী এ হামলার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।

তিনি জীবনে শুধু বাঙালি জাতির উন্নয়নের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন। মনে সংকল্প নিয়েছেন বাবার স্বপ্নে দেখা সোনার বাংলা যতদিন পূরণ না হবে ততদিন তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে যাবেন। এই বাংলাদেশকে তিনি সোনার বাংলা করবেন।

আজ সারাবিশ্ব যখন ভয়ানক করোনা ভাইরাস সারা বিশ্বকে গ্রাস করেছে তখন তিনি বাংলাদেশের কোন মানুষ যেন না খেয়ে থাকে সেজন্য তিনি সারাদেশে মনিটরিং সেল গঠন করেছেন। দেশের মানুষ যেন বিপদে না পড়েন সেজন্য অনেক সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন যা সারাবিশ্বে প্রসংশিত।

১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে নরপিশাচরা হত্যা করেছিল। কিন্তু রক্ষা পেল শুধু দুই বোন। তাদের দেশে আসতে নিষেধ করা হয়েছিল। ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। কিন্তু যার দেহে শেখ মুজিবের রক্ত বইছে তিনি চুপ করে বসে থাকতে পারেন। তিনি ঠিক সময়ে দেশে ফিরে এসেছেন এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাল ধরছেন শক্ত হাতে।

আজ এক এক করে ৭৪ বছরে পা দিলেন। আপনার দৃঢ় পদক্ষেপ বাঙালি জাতিকে নিয়ে যাবে এক অনন্য উচ্চতায়। আপনি বেঁচে থাকুন অনেক দিন। আপনার সঠিক নির্দেশনায় বাংলাদেশ পাবে এক পরাক্রমশালী বাংলাদেশ। যা বাঙালি জাতি হাজার বছর ধরে স্মরণ করবে।

শুভ জন্মদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here