Home জেলার খবর নিয়ামতপুর জমি নয় যেন পুরোমাঠ সবুজ চাদরের বিছানা।

জমি নয় যেন পুরোমাঠ সবুজ চাদরের বিছানা।

115
0

নিয়ামতপুর (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর শস্যভান্ডার খ্যাত নিয়ামতপুরের কৃষকরা এবার ২১ হাজার ৯শ ৮৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্য মাত্রা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। ঘন কুয়াশা আর প্রচন্ড শীত উপেক্ষা করেও কৃষকরা মাঠে কাজ করেছেন। এখন মাঠ জুড়ে যেন জমি নয় পুরোমাঠ সবুজ চাদরের বিছানা। কিন্তু করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের প্রভাবে ধান কাটা শ্রমিকের তীব্র সংকট দেখা দিতে পারে এমনটি আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ফলে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার সকল কৃষক ঘরে ধান তোলা নিয়ে আগাম দুশ্চিন্তা আর দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলায় ২২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণ করা হয়েছে। শুরু থেকে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধান বেশ ভাল হয়েছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার রোগ বালাই না থাকায় ধানের অনেক ভাল ফলন হবে আশা করছি।
উপজেলার কৃষকরা বলছেন, সদ্য গোলায় ওঠানো রোপা আমনের ফলন ভাল পেয়েছি। দাম ভাল পাওয়ায় লোকসানের মুখ দেখতে হয়নি কৃষককে । এ কারনে বোরো চাষের আগ্রহ বেড়েছে কৃষকদের মাঝে। বুক ভরা আশা নিয়ে কৃষকরা এবার অধিক পরিমাণ জমিতে বোরো চাষে করেছেন। বিএমডিএর গভীর নলকূপগুলো এখন পুরোপুরি চালু। এ ছাড়াও অনেক মাঠে শ্যালো ইঞ্জিন বসিয়ে পানি সেচের মাধ্যমে বোরো চাষ করেছেন কৃষকরা। এখন কৃষকরা জমিতে কীটনাশক প্রয়োগ করতে ব্যস্ত দিন পার করছে।
নিয়ামতপুর উপজেলার মায়ামারী গ্রামের আবুল কাশেম, নংপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর, বাতপাড়া গ্রামের রইস উদ্দীন, গুজিশহরের মামুনুর রশিদসহ অনেক কৃষকরা বলেন, আমন আবাদে ধান পাকার পরেও ধান কাটতে হাতে কিছু সময় পাওয়া যায়। ইরি-বোরো মৌসুমে নানান রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ লেগেই থাকে। ফলে ধান পাকার সঙ্গে সঙ্গে কেটে ঘরে তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়তে হয়।
হাজিনগর ইউনিয়নের কাপাস্টিয়া গ্রামের বদিউজ্জামান বলেন, কয়েক বছর ধরে এমনিতে ধানের আবাদে নানা কারণে লোকসান গুনতে হয়েছে। গত আমন ধানের দাম কিছুটা বেশী পেয়ে অনেকটা লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছি। এই মৌসুমে যদি ধানের সঠিক মূল্য পাওয়া না যায় তাহলে ব্যাপক লোকসানের কবলে পড়তে হবে।
নিয়ামতপুর বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) সহকারী প্রকৌশলী মতিউর রহমান জানান, এবার বোরো মৌওসুমে সেচ সুবিধা দিতে ৬০৩ টি গভীর নলকূপ চালু রয়েছে।
এ ব্যাপারে নিয়ামতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমির আব্দুল্লাহ মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, সরকারী সহযোগীতা পাওয়ায় এবারে কৃষক গত বারের থেকে বেশী বোরো ধান চাষ করেছে। আবহাওয়াগত কারনে এবারে উপজেলার সকল মাঠের ধান ভালো হয়েছে। ধানে রোগবালাইও কম। এছাড়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিদিনই মাঠে যাচ্ছে এবং কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here